মন্তেসারির জন্মদিনে প্রদর্শনী শিশুদের
পারমিতা রায়
প্রাচীন গ্রিসের স্পার্টা। শক্তি চর্চার জন্য সেরা। অপুষ্ট, অশক্ত, প্রতিবন্ধী শিশুরা সেখানে অপাংক্তেয়। সেসব শিশুদের জন্য প্রশাসন বরাদ্দ করত পাহাড় থেকে ছুঁড়ে ফেলে মৃত্যুদণ্ড অথবা দাসত্ব।
বুক কেঁপে উঠছে তো? অবোধ শিশুর তো প্রতিবাদ করার ক্ষমতা নেই। সে'কারণে খুব সহজেই তার ওপর শাস্তি আরোপ করা যায়। আরোপ করা যায় মৃত্যুদণ্ডও। অথচ পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার অঙ্কুরেই নষ্ট করা বেশ সহজ।
সমাজ বদলেছে। বদল হয়েছে চিন্তাভাবনার। মানবিক হয়েছে ঐ অশক্ত, প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি। ওরাও কিছু পারে। সেটাও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রমাণিত হয়েছে। আমরা পেয়েছি টমাস আলভা এডিসন, স্টিফেন হকিন্সকে। তবুও সমাজের চোখে ওরা এখনও 'একটু অন্যরকম'।
এই 'একটু অন্যরকম' শিশুদের দিকে প্রথম সহানুভূতির হাত বাড়ালেন চিকিৎসক মারিয়া মন্তেসারি। একশো বছরেরও আগে এই ইতালীয় ডাক্তার বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনার ভিত্তিতে তৈরি করেছিলেন এই শিশুদের শিক্ষাপদ্ধতি যা এখন সারা পৃথিবীতে 'মন্তেসারি পদ্ধতি' বলে বিখ্যাত।
মাদুরদহের 'ব্লুমিং ডেল অ্যাকাডেমি হাইস্কুল' অনুসরণ করে মন্তেসারি পদ্ধতি। স্কুলের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সঙ্গে স্বাভাবিক বাচ্চাদের একসঙ্গে শিক্ষা দেবার কাজ করে স্কুলটি। এজন্য বিশেষ শিক্ষকরা এবং সাধারণ শিক্ষকরা মিলিতভাবে কাজ করেন। এ'বছর সাফল্যের সঙ্গে দুই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছাত্র-ছাত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।
৩১ আগস্ট ডাঃ মন্তেসারির ১৫২তম জন্মদিনে স্কুলবাড়িতে আয়োজন হয়েছিল শিক্ষামূলক প্রদর্শনী। মঙ্গলপ্রদীপ জ্বেলে প্রদর্শনী উদ্বোধন করলেন অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন স্কুলের অধ্যক্ষা প্রদীপ্তা কানুনগো, প্রধান শিক্ষিকা ও মন্তেসারি বিভাগের প্রধান শ্রীমতী বন্দনা দাশগুপ্ত, কোষাধ্যক্ষ নির্মল খান্না সহ বহু বিশিষ্টজনরা।
আবির চট্টোপাধ্যায় স্কুলের শিক্ষণ পদ্ধতির বিশেষ প্রশংসা করেন। প্রায় তিন ঘন্টা ধরে তিনি ও তাঁর স্ত্রী নন্দিনী চট্টোপাধ্যায় প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। শিশুদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটান তাঁরা। শিশুরাও খুব আনন্দের সঙ্গে তাদের বানানো মডেল অভিভাবকদের বুঝিয়ে দেয়।
মন্তেসারি শিক্ষা পদ্ধতিতে যে সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয় তাও শিক্ষিকারা দর্শকদের বুঝিয়ে দেন। শিশুদেরকে সমাজের মূলস্রোতে যুক্ত করার জন্য এই প্রদর্শনী আয়োজন করা স্কুলের অন্যান্য প্রচেষ্টাগুলির মধ্যে একটি।
______________________________
ছবিঃ
১) 'ব্লুমিং ডেল অ্যাকাডেমি'তে শিশুদের সঙ্গে আবির চট্টোপাধ্যায়।
২) শিশুদের তৈরি মডেল।